আজ || মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২
শিরোনাম :
  গোপালপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামলা, ভাংচুর ও লুটের অভিযোগ       গোপালপুরে নিষিদ্ধ জালে আগুন       মাদার তেরেসা এ্যাওয়ার্ড পেলেন কলেজ শিক্ষক নূর নবী       ৮টা-৩টা অফিস; গোপালপুরে অধিকাংশ সরকারি অফিস ছিল তালাবদ্ধ       গোপালপুর থানা প্রাঙ্গণে লাশ রাখার ঘর উদ্বোধন       গোপালপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পতাকাদন্ড আম পাড়ার কোটা       অবশেষে উচ্ছেদ করা হলো গোপালপুরের সেই ৪টি অবৈধ সেচপাম্প       রাজা যায়, রাজ্যের মানচিত্রও বদলায়, টিকে থাকে মোসাহেব, চাটুকার ও চামচা       জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি গোপালপুর থানার মোশারফ হোসেন       বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন    
 


গোপালপুরের নিভৃত পল্লিতে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ‘জয় বাংলা পাঠাগার’

কে এম মিঠু, গোপালপুর :
গোপালপুর উপজেলার এক নিভৃত গ্রামাঞ্চলে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ‘জয় বাংলা পাঠাগার’। পাঠাগারে স্থান পাওয়া অনেক দুষ্প্রাপ্য বই পড়তে পেরে খুব খুশি স্থানীয়রা। বই বাড়িতে নিয়েও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে পাঠকরা।
উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে গত ১৬ ডিসেম্বর এ পাঠাগারটি উদ্বোধন করা হয়। পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক আমেরিকা প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করেন।

জয় বাংলা পাঠাগারে বই পড়ছেন পাঠক

জয় বাংলা পাঠাগারে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা পাঠাগারে গিয়ে বই পড়ছেন। বই পড়ার পাশাপাশি এখানে খবরের কাগজও পড়ছেন। অনেকেই আবার পাঠাগারের সুন্দর অবয়ব দেখতে আসছে। পাঠাগারে ভিতর আলমারিতে সাজানো রয়েছে সারিসারি বই। পাঠাগারে আসা পাঠকেরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একাত্তুরের বই, কেউ গল্প উপন্যাস, কেউ সাহিত্যিকের জীবনী, কেউ ভালোবাসার গল্প, কেউ বৈজ্ঞানিক কাহিনীসহ বিভিন্ন বই পড়ছেন।

জানা যায়, একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী ও তার সহধর্মিনী ড. জিনাত নবী তাঁদের গ্রামের বাড়ি খামারপাড়া গ্রামে ‘জয় বাংলা পাঠাগার’ নির্মাণ করেন। এই ছোট গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে নিজ উদ্যোগে ‘জয় বাংলা’ প্রতিষ্ঠা করে ড. নুরুন নবী। উদ্বোধনের পর থেকেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে পাঠাগারটি। ড. নুরুন নবী একজন লেখক ও বই পাগল মানুষ। তার প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারের পাশেই রয়েছে একটি প্রাইমারী ও উচ্চ বিদ্যালয়। ওই দুইটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও স্কুলের পাশাপাশি বই পড়ার মনোনিবেশ করে সেখানে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় গ্রামের অনেক শিক্ষিত তরুণ, যুবক ও বয়স্ক মানুষ পাঠাগারে আসেন বই পড়তে। পাঠাগারটিকে প্রতিদিন ১৫/২০ জন আসে বই পড়তে।

মনোরম ও দৃষ্টিনন্দন পাঠাগারে বর্তমানে ৩১৫টি বই রয়েছে। এখানে খুব শীঘ্রই আরো এক হাজার বই যুক্ত হবে। পাঠাগারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েই বেশি বই সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিকের জীবনী, ভালোবাসার গল্প, বৈজ্ঞানিক কাহিনী ও রূপচর্চার বইও রয়েছে। রয়েছে ছোটদের গল্পের বই। বইয়ের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি দিয়ে পাঠাগারটি সাজানো হয়েছে।

সেখানে বই পড়তে আসা তরুণরা জানায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এতো সুন্দর পাঠাগার হবে এবং তাতে দুষ্প্রাপ্য বই পাওয়া যাবে এটা ভাবিনি। কিছুদিন আগেও গ্রামের ছেলে মেয়েরা মোবাইলে গেমস ও বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়তো। কিন্তু পাঠাগার হওয়াতে ছেলে-মেয়েরা এখন এখানে বই পড়তে আসছে। বই পড়ে জ্ঞান লাভ করা যায়। অনেক বই আছে যেগুলোর নাম কখনো শোনাই হয়নি।

জয় বাংলা পাঠাগারের পরিচালক আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, প্রতিদিন এই পাঠাগারে প্রায় ২০জন পাঠক বই পড়তে আসে।

গোপালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার দত্ত জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যারা অবসরে মোবাইলে গেম, গল্পগুজব করে সময় কাটাতো তারা এখন এই পাঠাগারে এসে বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে। এ পাঠাগারে বই পড়ে নানা শ্রেণির পাঠক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য জানার পাশাপাশি অনেক নামীদামী লেখকের বই পড়তে পারছে। তাছাড়া অনেকেই পাঠাগার থেকে বই নিয়ে বাড়িতে পড়ছে।

জয় বাংলা পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই পাঠাগারটি করা হয়েছে। আমরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। পাঠাগারটির নাম জয় বাংলা রাখা হয়েছে এইজন্য যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!