আজ || মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
শিরোনাম :
 


গোপালপুরের বিলঝিলে ফের দেখা মিলছে হারিয়ে যাওয়া ‘বুনোহাঁস’

কে এম মিঠু, গোপালপুর:
প্রায় চার দশক পর হারিয়ে যাওয়া বুনোহাঁসরা আবার ফিরতে শুরু করেছে গোপালপুর উপজেলার বিলঝিলে, খাল-পুকুরে, ঝোপঝাড়ে।

জানা যায়, উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত গ্রাম সাহাপুর। যার পূর্বে বসনবিল, উত্তরে বুদ্ধিবিল এবং দক্ষিণে পয়াবিল। বিলের টলমলে জলসহ হরেকরকম গাছপালা আর গুল্মলতার বৈচিত্র্যে ভরপুরে ঘেরা এ গ্রাম।

গ্রামের হোমিও চিকিৎসক কবি মুক্তার হোসেন জানান, পাখির গ্রাম হিসেবেই পরিচিত সাহাপুর ছিল। পরে বিভিন্ন কারণে গ্রামটি ধীরেধীরে পাখিশূন্য হতে থাকে। চার দশক আগে গ্রামে প্রচুর বুনোহাঁস দেখা যেত। দীর্ঘদিন দেখা না মেলায় ধরে নেওয়া হয় বিলুপ্তি ঘটেছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার আমার বাড়ির সুপারি বাগানে হঠাৎ বুনোহাঁসের দেখা মেলে। পরদিন সকালে বৃষ্টির সময় একটি উঁচু সুপারি গাছ থেকে ছয়/সাতটি বাচ্চা বুনোহাঁস মাটিতে পড়ে। তারপর পিল পিল করে বাচ্চাগুলো বিলের জলে নেমে যায়। কিন্তু একটি দুর্বল বাচ্চা পিছিয়ে পড়ে। আর বাড়ির শিশুরা সেটিকে ধরে ফেলে। পরে অসুস্থ সেই বুনোহাঁসের ছানাটিকে চিকিৎসা, খাবার ও সেবা দিয়ে বাড়িতেই আগলে রাখা হয়েছে।

হোমিও চিকিৎসক কবি মুক্তার হোসেনের বাড়িতে ধরা পড়া বুনোহাঁসের বাচ্চা।

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবুল হোসেন জানান, গাঁয়ের বিলে বুনোহাঁস, ডাহুক, পানকৌড়ি, কালিম, গাংচিল, বক, বাবুইবাটান, মাছরাঙা, শামুকখোল, কান্তেচরা, মানিকজোড় ও সারসের মতো আবাসিক এবং নানা অতিথি জলচর পাখি দেখেছেন। এখনো বক, মাছরাঙা, কালিম, ডাহুক মিললেও বুনোহাঁস একদম হারিয়ে যায়। চার দিন আগে বুনোহাঁসের ফিরে আসার খবরে সবাই অবাক। গাছগাছালিতে বাসা বাঁধছে, বিলের পানিতে ডুবসাঁতার দিচ্ছে জেনে সবাই খুশি। শিকার ও প্রজননস্থল যাতে বিনষ্ট না হয় সেদিকে সবার খেয়াল।

গ্রামের পেশাদার পাখি শিকারি নাজিম উদ্দিন ছয় দশক ধরে ফাঁদে জলজ পাখি শিকার ও কেনাবেচার ব্যবসা করেন। ৮০ সালের দিকে সর্বশেষ বুনোহাঁস শিকার করেন তিনি। এরপর আর দেখা মেলেনি। আষাঢ়-শ্রাবণে বুনোহাঁস ডিম থেকে ছয়/সাতটি করে বাচ্চা দেয়। বিলের কাছাকাছি গাছের কোঠরে বা পত্রগুচ্ছের আড়ালে বাসা বাঁধে। বাচ্চা ফোটানোর দিনকয়েক পর মা-হাঁস বৃষ্টিমুখর দিনে বাসা থেকে বাচ্চাদের ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। আর বাচ্চারা মাকে অনুসরণ করে দ্রুত পায়ে হেঁটে পানিতে নামে। এরা শস্যবীজ, ছোট মাছ, পোকামাকড়, জলজ উদ্ভিদের ডগা ও ফুল খায়।

বুনোহাঁসের বাচ্চাটি দেখতে (বামদিক থেকে) সাংবাদিক কে এম মিঠু, গোপালপুর প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, কবি মুক্তার হোসেন এবং গ্রামের প্রবীণ পাখি শিকারি মো. নাজিম উদ্দিন।

আলাউদ্দিন নামের গ্রামের আরেক প্রবীণ জানান, গ্রামীণ বনজঙ্গল হ্রাস, অবাধে শিকার, খাদ্যসংকট ও প্রজনন পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় বুনোহাঁসসহ জলজ পাখি কমতে থাকে। দিনদিন গাঁয়ে গাছপালার সংখ্যা বাড়ছে। শিকার বন্ধ হয়ে গেছে। শুস্ক মৌসুমে বিলের তলানীতে কিছু পানি থাকে। তাছাড়া আশপাশের বাণিজ্যিক মৎস্য খামারে পাখিরা খাবার ও আশ্রয় পায়। ফলে বুনোহাঁসের মতো জলজ পাখিরা আবার ফিরেছে। এটি আমাদের জন্য খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।

  • 808
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    808
    Shares

মন্তব্য করুন

কমেন্ট করেছে


Top
error: Content is protected !!