আজ || মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
শিরোনাম :
 


ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগান্তকারি সিদ্ধান্ত ‘খতিয়ান সংশোধন’

::: মোঃ শামছুল আলম চৌধুরী :::
২৯ জুলাই ২০২১ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন অধিশাখা-০১ থেকে একটি যুগান্তকারী সাত পৃষ্ঠার পরিপত্র জারি হয়েছে। বিষয়টি ভূমি মালিকানা সংশোধন সম্পর্কীত। চলমান ভূমি জরিপে অনেক সময়ই খতিয়ানে ভ্রম পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। ভূমির পরিমাণ, মালিকানা কিংবা অবস্থান এগুলো নিয়ে জরিপে চুড়ান্ত প্রকাশনার পরও অনেক বিরোধের সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাতে করে ক্ষতিগ্রস্থ মালিককে আদালত পর্যন্ত যেতে হয়। কিন্তু পরিপত্রটিতে The state Acquisition and Tenancy Act, 1950(1951) সংক্ষেপে  SA & T Act বা রাষ্ট্রিয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন এর ১৪৩ এবং ১৪৯ ধারা উল্লেখ করে সবিস্তরে বিধৃত করা হয়েছে। বিষয়টি Tenancy Rules বা প্রজাস্বত্ব বিধি ১৯৫৫ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত।
Cadastral Survey বা CS জরিপ থেকে বর্তমানে চলমান SA & T Act এর ১৪৪ ধারায় প্রণিত রিভিশনাল জরিপে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে ভুল কিংবা তঞ্চকতার পরিমান অধিক। হতে পারে পূর্বে মালিক কিংবা দাগের সংখ্যা ছিল কম। বর্তমানে তার পরিমান অনেক গুণ বৃদ্ধি পয়েছে। কিন্তু ভূমি জরিপে আরো অধিক যত্নবান হলে ভ্রমের পরিমান আরো কমে আসবে।

খতিয়ান বা মালিকানা হালনাগাত করনার্থে সহকারি কমিশনার (ভূমি) গণ SA & T Act এর ১৪৩ ধারা প্রয়োগ করে থাকেন। অপর দিকে একই আইনের তঞ্চকতা সংশোধনের বিষয়েও ১৪৯ ধারাতে ব্যবস্থা গ্রহনের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু ভ্রম ও তঞ্চকতার বিষয়টি নানান কারণে সর্বক্ষেত্রেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতো না। সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তিকে আদালত পর্যন্ত যেতে হয়। ২৯ জুলাই ২০২১ এর জারিকৃত পরিপত্রটিতে বিশদ আলোচনান্তে আইনের ধারা উল্লেখ করে জন ভোগান্তি নিরসনে দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যা অত্যন্ত প্রসংশনীয় উদ্যোগ। আশির দশকে মাঠ পর্যায় থেকে প্রশাসনের রাজস্ব কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তাব ছিল, তা হলো জরিপের পর চুড়ান্ত খতিয়ান সংশোধনের এখতিয়ার রাজস্ব কর্মকর্তাদেরকে প্রদান করা। এ প্রস্তাবের মূল যৌক্তিকর্তা ছিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সেটেলমেন্ট অফিসার একই আইন SA & T Act ধারা কার্যনির্বাহ করে থাকেন। এই আইনের ২(২৪) ধারায় তারা উভয়ই রাজস্ব কর্মকর্তা পার্থক্য শুধু জরিপ চলাকালীন সময়ে জরিপের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হলেন সেটেলমেন্ট অফিসার আর স্বাভাবিক সময় ও জরিপ চলাকালীন সময়ে ভূমি সম্পর্কিত কার্যাদি যিনি সম্পদিত করে থাকেন তিনি হলেন সহকারি (ভূমি)। অর্থাৎ এই দুই ধরনের কর্মকর্তাদের মূল পদবি হলো রাজস্ব কর্মকর্তা। প্রজাস্বত্ব বিধি ১৯৫৫ এর ৩৬ বিধিতে অতিরিক্ত ক্ষমতা অর্পণ করে সেটেলমেন্টকে অফিসারকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত ক্ষমতা অর্পণ করলে জরিপের কাজটিও কিন্তু সহকারি কমিশনার (ভূমি) নির্বাহ করতে পারে। কারণ তিনিও একজন মূল রাজস্ব কর্মকর্তা। আর সেই জন্যই আশির দশকের শেষ দিকে সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রজাস্বত্ব বিধির ৩১ বিধিতে জরিপের আপিল শুনানি গ্রহন করতেন।

জেলা প্রশাসকেরও কিন্তু আদি বা মূল পদবি হলো কালেক্টর। আর কালেক্টর হিসেবে পদবিটি এখনও SA & T Act এ বর্তমান। কালেক্টরকে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট পদটি ফৌজদারি ব্যবস্থপনায় প্রদান করা হয়। পাকিস্তান আমলে জেলার এই কর্ণধার ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে তিনি এখনও কালেক্টরও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রুপে কর্মসম্পদন করে আসছেন। খতিয়ান সংশোধনের বিষয়ে কোন ব্যক্তি সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর আদেশে সংক্ষুদ্ধ হলে কালেক্টরের নিকট অথবা কালেক্টরের আদেশে কোন ব্যক্তি কমিশনারের নিকট আপিল দায়ের করতে পারেন।

২৯ জুলাই ২০২১ এ ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত উল্লেখিত পরিপত্রটি ভূমি ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং মানুষের অনেক ভোগান্তির লাগব ঘটাবে। সেই সাথে সময়ও অনেক সাশ্রয় হবে। আশা করা যাচ্ছে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত চৌকস সহকারি কমিশনার (ভূমি), কালেক্টর কিংবা কমিশনারগণ ভূমি মালিকগণের অনেক সমস্যারই সমাধান নিয়ে আসবেন।

লেখক পরিচিতি :
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা
চৌধুরী বাড়ি, ডাকুরী, গোপালপুর, টাঙ্গাইল।

  • 87
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    87
    Shares

মন্তব্য করুন

কমেন্ট করেছে


Top
error: Content is protected !!