আজ || শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১
 


বিদ্রোহী নিয়ে বেকায়দায় আ’লীগ; সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চতুর্থ ধাপে পৌরসভা নির্বাচনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক মেয়র রকিবুল হক ছানা বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন। গত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলেও এবার বিদ্রোহীর কারণে ধরাশায়ী হতে পারেন। কারণ বিদ্রোহী বড়ই শক্তিশালী। তার পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মি। আওয়ামী লীগের বিশাল একটি অংশ প্রকাশ্যেই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। প্রভাবশালীরাও গোপনে বিদ্রোহীকে জয়ী করার জন্য চালছেন নানান কৌশল।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কে এম গিয়াস উদ্দিন। তিনি গোপালপুরে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা। মেয়র রকিবুল হক ছানার ব্যর্থতা তুলে ধরে জনগণে কাছে ভোট চাইছেন। নির্বাচিত হতে পারলে পৌরসভাকে একটি আধুনিক তিলোত্তমা পৌরসভা করবেন এমনই প্রতিশ্রিুতি দিচ্ছেন।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের তালিকায় তার নাম ছিল এক নম্বরে। জেলা থেকেও তার নাম এক নম্বরে রেখে কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের তৃণমুল সদস্যরা আমার নাম প্রস্তাব করে। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও কেন্দ্রে আমার নাম তালিকায় এক নম্বরে রাখেন। কিন্ত মনোনয়ন পান জনবিচ্ছিন্ন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি। ভোটারদের মাঝে তার কোন অবস্থান নেই। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার পোস্টার ছিড়ে ফেলছে নৌকার প্রার্থীর লোকজন। প্রচারনায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দিঘুলীপাড়া মোড়ে প্রচারণা চালাতে গেলে সেখানে নৌকার কর্মিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাধা দেয়। পুলিশকে জানিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। পেশী শক্তি ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়ী হতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী। তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানান।

বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনকে আব্দুস ছালাম পিন্টু পরিবারের এজেন্ট অভিহিত করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেয়র রকিবুল হক ছানা বলেন, অর্থ পরামর্শ জনবল দিয়ে তাকে নির্বাচনে দাড় করিয়েছে। আমার জনপ্রিয়তা, পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন ও আধুনিক পৌরসভা গঠণের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তের জন্য আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু লোক তার সাথে রাতের আধারে গিয়ে কাজ করছে এটা সত্য তবে তারা অন্ধকারেই ডুবে থাকবে। আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মিরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমার পক্ষে কাজ করছে। জয়ের ব্যপারে আমি শতভাগ আশাবাদি।

জেলা আওয়ামী লী‌গের দপ্তর সম্পাদক র‌ফিকুল ইসলাম ব‌লেন, গোপালপুর পৌরসভার নির্বাচ‌নে মেয়র প‌দে বি‌দ্রোহী প্রার্থী হি‌সে‌বে না দাড়া‌তে নি‌র্দেশ প্রদান কর‌লেও তি‌নি মা‌নেননি। দলীয় সিদ্ধা‌ন্তের বাই‌রে গি‌য়ে নির্বাচ‌নে অংশগ্রহণ করায়‌ দ‌লের শৃঙ্খলা ভ‌ঙ্গের দা‌য়ে তা‌কে ব‌হিস্কার করা হ‌য়ে‌ছে। তবে এ ব্যপারে গিয়াস উদ্দিন বলেন, বহিস্কার নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলবে না।

এদিকে অভ্যন্তরিন কোন্দলের কথা অস্বীকার করলেও বিদ্রোহী প্রার্থী ভাবিয়ে তুলেছেন মেয়র পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেলকে। তিনি ১৯৯৪ সালে পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ২০১১ সালে মেয়র ছিলেন। গোপালপুর উপজেলা বিএনপির দুর্গম ঘাটি। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামী আব্দুস সালাম পিন্টু ও মাওলানা তাজউদ্দিনের বাড়ি এই গোপালপুরে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তার দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য দলের নেতাকর্মিকে নির্দেশনা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে তার নির্দেশনা অমান্য করে দলের অনেক নেতাকর্মি গোপনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে।

খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী খন্দকার শাহাজাহান ভিপি বিএনপির কেউনা। দল থেকে বহু আগে সে পদত্যাগ করেছে। সে আওয়ামী লীগের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে। গোপালপুরে বিএনপির কোন্দল নেই। একযোগে সবাই কাজ করছে আমার পক্ষে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশংকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচারনাই চালাতে পারছি না। পোস্টার ছিড়ে ফেলছে, প্রচার কাছে ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ কর্মিরা। এছাড়া অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে তারা। বিএনপির ভোটাররা যাতে ভোট দিতে না যায় ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের হুমকি দিয়ে আসছে। টেবিলে দেখিয়ে নৌকা প্রতিকে ভোট দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে। অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যাতে হয় তার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানান।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি  খন্দকার শাহাজাহান ভিপি। তিনি গত দুটি পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তার অভিযোগ প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে সামনের সাড়িতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। ৪০ বছর ধরে রাজনৈতিক ময়দানে রয়েছি। সামাজিক রাজনৈতিকসহ সকল কর্মকান্ডে জনসেবা করছি। আমার জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও দল থেকে বার বার উপেক্ষিত হয়েছি। তাই জনগণের অনুরোধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছি। যেখানেই যাচ্ছি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।  তাছাড়াও বিএনপির বড় একটি অংশ আমার সাথে রয়েছে। তারা আমার পক্ষে কাজ করছে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪১ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। গোপালপুর পৌরসভায় মোট ভোটার ৪০ হাজার ৭৩৫জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২০ হাজার ১০২ জন ও নারী ভোটার ২০ হাজার ৬৩৩ জন।  আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • 712
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    712
    Shares

মন্তব্য করুন

কমেন্ট করেছে


Top
error: Content is protected !!