আজ || রবিবার, ১৩ Jun ২০২১
শিরোনাম :
 


বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল : কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক

কে এম মিঠু, টাঙ্গাইল থেকে ফিরে :
মহান মুক্তিযুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানি ও  তাদের দোসরদের যেভাবে পরাজিত করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতাকারীদের পরাজিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে যেমন ধ্বংস করা যাবে না তেমনি কেউ যদি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে বা ভাঙে, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের মতোই তাদেরকে মোকাবেলা করে আবার পরাজিত করব। আর  তাদেরকে আবারও আমাদের পায়ের নিচে পড়ে ক্ষমা চাইতে হবে।

১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে পৌরসভা কর্তৃক শুক্রবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক বলেন, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্থানী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করেছি।তারা আমাদের পায়ের নিচে অস্ত্র সমর্পণ করেছে। আজকে যারা মনে করছে এ দেশকে পাকিস্তানের ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, তালেবান-আফগানিস্তান বানাবে, ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবে, তাদেরকে আমরা একাত্তরের মতোই পরাজিত করব।

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যারা ভেঙেছে তাদের কী বিচার হবে? টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী এই কাজ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। অবশ্যই তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং এই আইনেই তাদের বিচার হবে।“
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরে বিএনপি জড়িত কিনা এবং তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বিএনপি এদের সাথে জোট করে ক্ষমতায় এসেছিল। ভাঙচুরে অবশ্যই তাদের যোগসাজশ আছে। কিন্তু বিচার করতে গেলে প্রমাণ লাগে। প্রমাণসাপেক্ষে অবশ্যই তাদের বিচার হবে। যারা এই কাজে অর্থ বা অন্যভাবে সহযোগিতা দিয়েছে এবং একাজে যারা অংশগ্রহণ নিয়ে অপরাধ করেছে তাদের কেউই রেহাই পাবে না।”

ড. রাজ্জাক আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশটিকে শুধু স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে চাননি, তিনি এটিকে বলেছিলেন মুক্তির সংগ্রাম। দেশটিকে তিনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সবদিক দিয়ে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ন্যায়-সমতার ভিত্তিতে একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি দেশীয়-আন্তর্জাতিক ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। তারপর থেকে ২১ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। যার ধারাবাহিকতা হলো বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা ও ভাঙচুর।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ভাস্কর্য ও মূর্তি এক নয়। ভাস্কর্যের একটা নান্দনিক দিক রয়েছে, এটি একটি শিল্প। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে করে তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে এ দেশের ভবিষ্যত বা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, জাগরূক রাখা যায়। ভাস্কর্য হচ্ছে স্মৃতিচিহ্ন বা স্মারক। এর মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে এবং মানবপ্রেমে ও মানবসেবায় ব্রতী হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইলকে মুক্ত করে। ১১ ডিসেম্বর সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরাট একটি বাহিনী নিয়ে, টাঙ্গাইল পুরোনো শহরে প্রবেশ করেন এবং থানা চত্বরে স্বাধীনতা বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন।

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক, সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য ছোট মনির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ফটো ক্যাপশন : টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

  • 227
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    227
    Shares

মন্তব্য করুন

কমেন্ট করেছে


Top
error: Content is protected !!