আজ || শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
শিরোনাম :
  গোপালপুরে স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড       গোপালপুরে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ       গোপালপুরের হেমনগর কলেজ মাঠে ফুটবল টুর্ণামেন্ট শুরু       মুজিববর্ষে মুজিবনগরে ‘বিডি টাইম্‌স নিউজ’র সম্মেলন       গোপালপুরে কর্মজীবী মা ও শিশুদেরকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা       বাহরাইনের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বাংলাদেশে আজ রাষ্ট্রীয় শোক       গোপালপুরে পদবী ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে ১৫ দিনের কর্মবিরতি       গোপালপুরে ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল প্রধান শিক্ষকের প্রাণ       গোপালপুরে ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’ সেরা শিল্পী পলাশকে সংবর্ধনা       গোপালপুরে সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী    
 


জাল সনদের অভিযোগ প্রমাণিত; হেমনগর ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষের বিচার দাবি

গোপালপুর বার্তা ডেক্স : ওরে বাটপার-ওরে চিটার। সময়ের আলোচিত সমালোচিত বাক্য। ওয়াজমাহফিলের আঙ্গিনা ছেড়ে ব্যাঙ্গাত্মক স্টাইল নিয়ে এই চার শব্দের বাক্যটি এখন সাধুজনের আসরেও ঠাঁই নিয়েছে। বিশেষ করে সাধুবেশিরা যখন প্রতারণা ও শঠতার আশ্রয়ে জালজালিয়াতি করেন, তখন এটির রসাত্মক অর্থ বহন করে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ডিগ্রী কলেজের এক শিক্ষকের সনদ জাল হওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ‘‘ওরে বাটপার-ওরে চিটার” বাক্য এখন গোপালপুরবাসির মুখে মুখে।

গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলামের সব জারিজুরি ফাঁস হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে। বগুড়ার নেকটার কর্তৃপক্ষ জাল সনদের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে নিশ্চিত করেন। বগুড়া শহরের মিনা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ একাডেমীও জাল সনদের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। গভর্নিংবডির সভাপতি এবং গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস খবরটির সত্যতা স্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, খাদেমুল ইসলাম জাল সনদে দেড়যুগ ধরে টাঙ্গাইলের হেমনগর ডিগ্রী কলেজে শিক্ষকতা করছেন। তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের প্রভাষক পদে চৌদ্দ বছর, আর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দেড় বছর। তিনি গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভোলারপাড়া গ্রামের মৃত আজাহার আলীর পুত্র। খাদেমুল ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারী হেমনগর ডিগ্রী কলেজে কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। (ইনডেক্স নম্বার এলইসি ডি-৩০৭৩৫১৬, সাবজেক্ট কম্পিউটার)।

সাবেক উপমন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু গভর্নিংবডির সভাপতি থাকাকালিন বিএনপিকর্মী পরিচয়ে তার চাকরি হয়। খাদেমুল বগুড়ার তদান্তিন ন্যাশনাল ট্রেনিং এ্যান্ড রিসার্চ একাডেমি ফর মাল্টিলেঙ্গুয়াল শর্টহ্যান্ড (নট্রামস) নিয়ন্ত্রণাধীন ঘাটাইল উপজেলা কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সস্টিটিউট থেকে ২০০০ সালে ‘ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি’ বিষয়ে সনদ সংগ্রহ করেন। (সিরিয়াল নং ২৮৯১, রেজিস্ট্রেশেন ২৯৩৭)। কিন্তু নিয়ম বহির্ভূত ভর্তি ও ভোগাস রেজাল্ট দেয়ার অভিযোগে ঘাটাইল উপজেলা শাখা বাতিল করেন নট্রামস। আর বাতিল হওয়া ঘাটাইল শাখার জাল সনদে হেমনগর কলেজে কম্পিউটার প্রভাষক পদের চাকরি নেন খাদেমুল। ওই সনদেই তার এমপিও হয়।

কলেজ পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য এবং হেমনগর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল সালাম জানান, খাদেমুল জালসনদে শুধু প্রভাষক পদে চাকরিই নেননি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদও দখল করেছেন।

ভোলারপাড়া গ্রামের শিক্ষাবিদ আলীম হোসেন জানান, বিএনপির কর্মী পরিচয়ে খাদেমুল চাকরি বাগিয়ে নেন। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে তিনি হাইব্রীড লীগার বনে যান।

গভর্নিং বডির সদস্য এবং অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, জাল সনদের বিষয়টি আলোচনায় আসে গত বছর জুনে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল ইসলামকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরিয়ে খাদেমুলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করায়। অধ্যক্ষসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৫টি শূণ্য পদে নিয়োগে কোটি টাকা বাণিজ্যের ধান্ধায় জুনিয়র লেকচারার খাদেমুলকে এ পদে বসান একটি চক্র।

গোপালপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা কবীর জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারীকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালানুযায়ী কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ শূন্য হলে সহকারি প্রধান, সহকারি প্রধান না থাকলে শিক্ষকদের মধ্যে বয়োজ্যষ্ঠকে দায়িত্ব দেয়ার বিধান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সপাল এমনকি ১২ জন সিনিয়র শিক্ষককে ডিঙ্গিয়ে কনিষ্ঠ প্রভাষক খাদেমুলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়। প্রভাবশালী চক্রটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খাদেমুলের যোগসাজশে কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের ধান্ধায় নামলে গভর্নিং বডির অপর সদস্যরা বিগড়ে যান। গভর্নিংবডির সদস্য এবং হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন খান আইয়ুব ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে টাঙ্গাইল আমলী আদালতে ২০১৯ সালের জুনে মামলা দায়ের করেন। ফলে কলেজের নিযোগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।

কলেজ গভর্নিং বডির অপর সদস্য এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, সকল সিনিয়রকে পাশ কাটিয়ে এমন এক মোস্ট জুনিয়রকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছে যার সনদ পর্যন্ত জাল। তিনি এর প্রতিকার দাবি করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. মনিরুজ্জামান জানান, জাবির নিয়মানুযায়ী ডিগ্রী পর্যায়ে সাবজেক্ট অনুমোদন না থাকলে এমন প্রভাষক ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে পারেন না। অথচ খাদেমুল ডিগ্রী নয়, ইন্টারমিডিয়েট শ্রেণির কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলাম জানান, তিনি জাল সনদে চাকরি নেননি। তার প্রথম সনদটি বগুডা নট্রামসের আওতাধীন ঘাটাইল শাখা থেকে নেয়া। তবে সেটি সন্দেহযুক্ত হওয়ায় তিনি ২০০১ সালে বগুড়ার মিনা বহুভাষী এন্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ভর্তি হয়ে নট্রামসের প্রকৃত সনদ সংগ্রহ করে চাকরি নেন। সুতরাং সনদ জালের অভিযোগটি ডাহা মিথ্যা। তাকে হেয় করার জন্য একটি মহল প্রপাগান্ডা চালাচ্ছেন।

এদিকে জাল সনদে চাকরির অভিযোগে হেমনগর কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি এবং গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস খাদেমুলকে তার কার্যালয়ে তলব করেন। সেখানে বগুড়ার মিনা বহুভাষী এন্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ একাডেমির আরেকটি সনদ উপস্থাপন করেন খাদেমুল। একই ব্যক্তির দুই সনদ দেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থ বনে যান। জাল সনদ সন্দেহে দুটি সনদ যাচাইবাছাই করার জন্য গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নেকটারের পরিচালককে অফিসিয়াল চিঠি দেন তিনি। চিঠির অনুলিপি গোপালপুর প্রেসক্লাবকেও দেয়া হয়।

বিষয়টি অনুসন্ধানের নিমিত্তে গত ১৮ অক্টোবর গোপালপুর উপজেলার একদল সংবাদকর্মী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইন্সস্টিটিউট (নেকটার) বগুড়া অফিসের পরিচালকের সাথে সাক্ষাত করেন। তিনি সনদটি বগুড়া শহরের সেউজগাড়ির মিনা বহুভাষী এন্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ একাডেমীর বলে জানান। খোঁজ নেয়ার জন্য সংবাদকর্মীরা ৫ সেউজগাড়িতে সংস্থার পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে সাক্ষাত করেন। খাদেমুলের দুটি সনদ, বগুড়া নেকটারের পরিচালককে লেখা গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসিয়াল চিঠি দেখানো হলে তিনি মৌখিকভাবে জানান, খাদেমুল ইসলাম নামে গোপালপুর উপজেলার কোন ব্যক্তি তার প্রতিষ্ঠান কখনো প্রশিক্ষণ নেননি। কোন প্রকার সনদও তাকে দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানের প্যাড ও সীলে তিনি একটি প্রত্যয়নপত্রও প্রদান করেন। প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়, খাদেমুল ইসলাম কখনো তার প্রতিষ্ঠানে কোন প্রশিক্ষণ নেননি। কোন সনদও কখনো তাকে দেয়া হয়নি। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট খাদেমুলের জমা দেয়া সনদটি জাল বলে তিনি প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে হেমনগর কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি এবং গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, অনেক বিলম্বে গত ৫ নভেম্বর তিনি বগুড়ার নেকটারের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন। তাতে উল্লেখ রয়েছে, খাদেমুলের প্রথম সনদটি জাল। আর দ্বিতীয় সনদটি নেকটার বা নট্রামস সরবরাহ করেনি। সেটি সরবরাহ করেছে মিনা বহুভাষী এন্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ একাডেমী। ওই সনদের দায়ও নেকটারের নয়। এটির দায় মিনা বহুভাষী এন্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ একাডেমির বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এমতাবস্থায় দুটি সনদের একটি যে জাল তা নিশ্চিত হওয়া গেছে নেকটারের প্রতিবেদনে। অপরটি যে জাল নয়, সেটি এখন খাদেমুলকেই যথার্থভাবে প্রমাণ করতে হবে। কারণ মিনা মাল্টিমিডিয়া ইতিমধ্যে এক প্রত্যয়নপত্রে সেটিও জাল বলে উল্লেখ করেছে। সুতরাং খাদেমুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কোন বাধা নেই।

সংবাদকর্মীদের ব্লাকমেইলে মিনা কম্পিউটারের ধান্ধা : এদিকে জাল সনদের বিষয় নিয়ে দ্বিচারিতা করছেন বগুড়া নেকটারের নিয়ন্ত্রণাধীন মিনা বহুভাষী এন্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ একাডেমী। জাল সনদের বিষয়টি সংবাদকর্মীদের মৌখিকভাবে নিশ্চিত এবং পরে নিজস্ব প্যাড ও সীল স্বাক্ষরে প্রত্যয়নপত্র দেয়ার এক সপ্তাহ পর প্রতিষ্ঠান পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান গত বৃহস্পতিবার দৈনিক আমার বার্তায় ‘সর্ব সাধারনের জ্ঞাতার্থে’ শিরোনামে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। তাতে বলা হয়, ‘গত ১৮ অক্টোবর তার বগুড়া অফিস কার্যালয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সাংবাদিক পরিচয়ে তিন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। জানতে চান, মো. খাদেমুল ইসলাম, পিতা মো. আজাহার আলী, গ্রাম ভোলারপাড়া, উপজেলা গোপালপুর, জেলা টাঙ্গাইল, অত্র প্রতিষ্ঠানে ২০০০ সালে ডিল্পোমা ইন কম্পিউটার কোর্স করেছেন কিনা। পরিচালক ভলিউম খোঁজাখুজি করেন। কিন্তু ২০ বছর আগের রেকর্ডপত্র খোঁজার সুযোগ না দিয়ে বলপূর্বক একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তারা চলে যান। এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিন গিয়ে পরিচালকের নিকট জানতে পারেন, ইউএনও গোপালপুর টাঙ্গাইল মহোদয়ের বরাত দিয়ে তদন্তের নামে ভুল তথ্যে বলপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছেন তারা। খাদেমুল ইসলাম মিনা থেকে বৈধভাবে সনদ লাভ করেছেন বলে বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়।’

সংস্থা খাদেমুলকে পুনরায় আরেকটি প্রত্যয়নপত্র সরবরাহ করে সনদ জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বগুড়ার ওই প্রতিষ্ঠান একবার জাল সনদ আবার জাল সনদ নয় এমন দুই ধরনের দুটি ভিন্নধর্মী পৃথক প্রত্যয়নপত্র দেয়ায় গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস বিস্ময় প্রকাশ করেন।

মিনার এ বিজ্ঞাপন জাল সনদের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার পরিকল্পিত ফন্দি বলে জানান অনেকেই। পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মিডিয়াকর্মীদের যে প্রত্যয়নপত্র হস্তান্তর করেন, সেটি পাশের দোকান থেকে কম্পোজ ও প্রিন্ট করা। কারণ তার প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি কম্পিউটারের সবকটি বিকল ছিল। সংবাদকর্মীদেও দোকানে প্রায় তিন ঘন্টা বসিয়ে রেখে বহু তালবাহানার পর তিনি প্রত্যয়নপত্র হস্তান্তর করেন। যে প্রতিষ্ঠানে সামান্য প্রত্যয়নপত্র কম্পোজ বা প্রিন্ট করার মতো কম্পিউটার সচল থাকেনা, সেটি কেমন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। জালসনদ ব্যবসার বিষয়টি ফাঁস হওয়ার ভয়ে পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জালসনদধারী খাদেমুলের পরামর্শে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন বলে সকলের ধারণা।

নেকটারের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, টাকা হলে বগুড়ার এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যে কোন সময় কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জালসনদ বাগিয়ে নেয়া যায়। এসব প্রতিষ্ঠানের উপর নেকটারের এখন কোন নিয়ন্ত্রণ নেই বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন : এদিকে হেমনগরবাসির ব্যানারে (৭ নভেম্বর) শনিবার গোপালপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এত বক্তব্য রাখেন, সাবেক রেলওয়ে কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম, আলী হোসেন এবং ওষুধ ব্যবসায়ী সাহার আলী।

বক্তারা হেমনগর কলেজের জাল সনদধারি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের (কম্পিউটার) প্রভাষক খাদেমুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

Comments

comments


Top
error: Content is protected !!