আজ || বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০
শিরোনাম :
  গোপালপুরে কলেজ ছাত্রীর বানোয়াট ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের দাবি       জননেতা হাতেম তালুকদারের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত       গোপালপুরে বানোয়াট ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন       গোপালপুরে যমুনা নদীতে ইলিশ সংরক্ষণে ভ্রাম্যমাণ অভিযান অব্যাহত       গোপালপুরবাসীর সাথে থানার নবাগত ওসির মতবিনিময়       গোপালপুর পৌর নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্রকে হঠাতে চান ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস       ফলদার প্রাণপুরুষ শ্যামবাবুর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ       গোপালপুরের প্রধান সড়ক জবরদখল করে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড       গোপালপুরে দূর্গাপূঁজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা       গোপালপুরের ভাষা সৈনিক হযরত আলী আর নেই    
 


গোপালপুর পৌর নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্রকে হঠাতে চান ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস

নিজস্ব প্রতিবেদক :
গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচনের এখনো তিন মাস বাকি। তবু সময়কে সোনালী সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করতে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। “অমুক ভাইকে মেয়র হিসাবে দেখতে চাই”, “অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র” শ্লোগাণ সম্বলিত রঙবেরঙের পোস্টারে শোভা পাচ্ছে পৌরশহরের অলিগলিতে। চলছে সমাবেশ, উঠান বৈঠক, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ নানা কৌশলের জনসংযোগ।

জানা যায়, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত গোপালপুর পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০১৫ সালে। ঐ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মেয়র হন রকিবুল হক ছানা। সেই হিসাবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তাই আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসকে টার্গেট করে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা আগাম জনসংযোগ শুরু করেছেন পৌরসভা এলাকায়।

এদিকে অনেক আগে থেকেই সরকার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সৈনিক তথা আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা, ইঞ্জিনিয়ার কে এম গিয়াস উদ্দীন পৌরবাসীর দোরগোড়ায় গিয়ে দোয়া, সমর্থন এবং ভোট প্রত্যাশা করে, ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ইতোমধ্যে নিজেকে একজন হাইভোল্টেজ মেয়র প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের জানান দিয়েছেন।

তিনি দলীয় নেতাকর্মী, পৌরসভার সাধারণ নাগরিক, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও নানাস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাড়ামহল্লা, হাটবাজার, দোকানপাটসহ জনসমাগম এলাকায়। সার্বিক সহযোগিতাসহ যোগাদান করছেন বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ক্রীড়ানুষ্ঠানে।

দলীয় নেতাকর্মীসহ অধিকাংশ পৌরবাসিন্দারা মনে করছেন, ১ম শ্রেণির এই পৌরসভার নাগরিকরা তাদের বঞ্চিত ও ন্যায্য সেবা পেতে হলে, বর্তমানের এই অদক্ষ এবং এনালক চিন্তাধারার পৌরকর্তৃপক্ষ পরিবর্তন করা অতি জরুরি।
তাদের দৃঢ়প্রত্যাশা, বর্ণচোরাদের পরিবর্তে এবার দলীয় মনোনয়ন পাবেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত বিশিষ্ট  শিক্ষানুরাগী, সামাজিকভাবে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং ক্লিনইমেজের পরপোকারী ব্যক্তিত্ব, আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত ও স্বচ্ছধারার প্রবীণ নেতা গিয়াস ইঞ্জিনিয়ার।

ইঞ্জিনিয়ার কে এম গিয়াস উদ্দীন স্থানীয় সূতী ভিএম পাইলট হাই স্কুল থেকে সাতটি লেটারমার্কসহ এসএসসি পাস করে ভর্তি হোন ঢাকা কলেজে। ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এসময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের তুখোড় ও প্রশংসিত ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও মিছিলে নেতৃত্ব প্রদান করেন।
ষাটের দশকে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গোপালপুর থানা শাখা গঠন করে আহ্বায়কের দ্বায়িত্ব পালন করেন।
উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানের সময় তিনি কাঁপিয়েছেন গোপালপুরের রাজপথ।
এছাড়াও আওয়ামীলীগের মুক্তি সংগ্রামের ৬ দফা, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং ৭০’র নির্বাচনসহ বিভিন্ন অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে টগবগে যুবক হিসেবে তিনি স্বেচ্ছাসেবক হয়ে কাজ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে।
১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্কলারশিপ নিয়ে তিনি রাশিয়ায় গিয়ে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ন্যাটোর আন্ডারে তিনি পশ্চিম জার্মানিতে দীর্ঘ ৯ বছর সফলতার সাথে চাকরি করেন।

এরশাদ আমলে জার্মানির চাকরি ছেড়ে তিনি দেশে ফিরে হাল ধরেন, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে।পাশাপাশি বিএনপি’র শাসনামলে যখন গোপালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের চরম দুর্দিন। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাপটে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যখন ঘরবাড়ি ছাড়া, সেই দুঃসময়ে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েও ইঞ্জিনিয়ার কে এম গিয়াস উদ্দিন অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে সাহস সঞ্চয় করে, দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করাসহ সফলভাবে গোপালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সদস্য। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি। স্বাধীনতা চেতনা মঞ্চের সভাপতি। সাপ্তাহিক মুক্তকন্ঠ’র স্বত্ত্বাধিকারি। তিনি বেশকয়েকটি শিক্ষা, সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
তিনি তার এলাকায় খুবই জনপ্রিয় এবং সম্মানিত একজন মানুষ। তিনি যেখানেই জনসংযোগে যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষের ঢল নামছে। তার সাথে পা মেলাচ্ছেন তরুণ প্রজন্ম। তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানান, এটি তার জন্য একটি বড় ধরণের শক্তি।

গোপালপুর পৌরসভাকে আধুনিক, ডিজিটাল ও জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পৌরবাসিকে পাঁচদফা অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে-

ব্যবসাবাণিজ্যের উন্নতি ঘটাবেন। যানজট নিরসনে পৌর পুলিশ নিয়োগ দিবেন। দ্রুততার সাথে একটি বাইপাস রোড নির্মাণ করবেন। রাস্তাঘাটের উন্নতি, পয়ঃপ্রণালীর সুব্যবস্থা করা, বিশুদ্ধ পানি, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করবেন। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-এতিমখানাসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, ঈদগাঁ, মন্দির ও শ্মশানঘাট উন্নয়ন করা হবে। স্বাধীনতা কমপ্লেক্স, মুক্তিযাদ্ধা কমপ্লেক্স, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সংস্কার এবং পৌরসভার সীমানায় সুদৃশ্য সীমানা ফলক করা হবে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মডেল পৌরসভা গঠন করা হবে।

দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তিনি খুবই আশাবাদী। দলের মধ্যে যারা ষড়যন্ত্র করেন এবং গোপনে বিএনপি ও জামায়াতকে পুনর্বাসিত করার অপচেষ্টা চালান, তাদেরকে দলীয় নেতাকর্মীরা এবার চিহ্নিত করেছেন। এবারের নির্বাচনে এসব বর্ণচোরাদের কোন ঠাঁই হবে না বলে তিনি আশাবাদী।

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সবচেয়ে পছন্দনীয় এবং সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কে এম গিয়াস উদ্দীন জানান, বিগত তিরিশ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি ছদ্মবেশ ধারণ করে নানা ছলছুঁতোয় পৌরসভায় ক্ষমতায় ছিলেন। তারা সব সময় নিজের আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। তাদের অনেকের ছাঁপড়া ঘরের জায়গায় বহুতল অট্রালিকা উঠেছে। পরিবহন খাতের একাধিক বাসের মালিক সেজে টাকার কুমির বনেছেন। পৌরবাসির দুঃখদুর্দশার দিকে তাদের কখনো কোন নজর ছিলনা, এখনো নেই। তাই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্বেও নাগরিক সুযোগসুবিধার লেশমাত্র নেই এখানে। একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে পৌরসভার উন্নয়নকে নিজের লাভালাভে পরিণত করা হয়েছে। জনগণ এবার তাদের প্রত্যাখান করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

গোপালপুর বার্তায় এক সাক্ষাতকারে ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন জানান, রাজনৈতিকভাবে তার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে আজঅবধি তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে চলছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রচুর কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষুদ্রকর্মী হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মযজ্ঞে নিজেকে সামিল করার সৌভাগ্য প্রত্যাশা করছেন।
দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তার পাশে রয়েছেন। এবার বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত সৈনিকেরা পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন  এবং জয়লাভ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Comments

comments


Top
error: Content is protected !!