আজ || শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০
শিরোনাম :
 


কানমলা খালে এমপির কাঠের সেতু পেয়ে আনন্দিত এলাকাবাসী

গোপালপুর বার্তা ডেক্স :
জনগণের ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি সরকারের দাপ্তরিকের দিকে তাকিয়ে থাকনে না। মানবসেবায় নিজের স্বদিচ্ছাকে কুশলীভাবে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন তিনি। ছোট্ট একটি কারণে মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে এমন বিষয় শুনামাত্রই তিনি তাৎক্ষনিকভাবে সেই সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন। এতে যেমন জনগণ উপকৃত হয়, তেমনি খুশিও হোন বেদম। গত পরশু এমনি একটি সমস্যার সমাধান দিয়ে তিনি মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। হ্যাঁ, তিনি টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ছোট মনির।

গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের বেড়াডাকুরি গ্রামের কানমলা খালে কাঠের সেতু নির্মাণ করে মানুষের যাতায়াতের চরম দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়েছেন এমপি ছোট মনির। বঙ্গবন্ধু সেতু আর পদ্মা সেতুর যুগে এ সামান্য কাঠের সেতু অনেকের নিকট তুচ্ছ মনে হলেও, যারা ভূক্তভোগী তাদের কাছে এটি মুশকিল আসান। কারণ বিগত চার বছর ধরে বর্ষাকালে গ্রামবাসিকে নিজের খরচে বাঁশের সাঁকো দিতে হয়। আর সেই সাঁকোতে পারাপার সম্ভব ছিলনা রিকসাভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি, মাটরসাইকেল বা কোন হালকা যানবাহনের।

ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার সুরুজ মিয়া জানান, পিংনা হাটে যাওয়ার জন্য এটি বাইপাস সড়ক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু কানমলা খালের সেতুটি ধসে যাবার পর মানুষের খুব সমস্যা হতো। এলাকাবাসি তদানিন্তন এমপি সাহেবের নিকট সমস্যাটির সমাধানের জন্য বহুবার গেছেন। কিন্তু তারা বহুবারই হতাশ হয়ে ফিরেছেন। বর্তমান এমপি সাহেব অস্থায়ীভাবে কাঠের সেতু করে দিয়েছেন। তিনি কথা দিয়েছেন কয়েক মাসের মধ্যেই এখানে পাকা ব্রীজ হবে। তখন আর কোন সমস্যা থাকবে না। মানুষ আপতত কাঠের সেতু দিয়ে যেতে পেরেই অনেক খুশি।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেড়াডাকুরি গ্রামের বিখ্যাত চৌধুরী বাড়ির সংলগ্ন সড়কের সেতুটি বন্যায় ভেঙ্গে পড়ে গত চার বছর আগে। দীর্ঘদিনেও সেখানে আর কোন সেতু নির্মিত হয়নি। গোপালপুর এলজিইডি বাজেটের অজুহাতে করছি-করবো, হচ্ছে-হবে করে চার বছর ধরে কালক্ষেপন করেছেন।

ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বুক পানি খালে প্রচুর স্রোতের মধ্যেও টানা চারদিন কাজ করে বাঁশ ও সিমেন্টের খুঁটির উপর কাঠের পুরুতক্তা বিছিয়ে এই সেতুটি বানানো হয়েছে। স্থানীয় এমপি ছোট মনির মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় অস্থায়ীভাবে চলাচলের জন্য দ্রুততার সাথে কাঠের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। অার স্থানটি যেহেতু এমপি সাহেবের সুনজরে পড়েছে। এবার এখানে পাকা সেতু হবেই ইনশাল্লাহ।

এমপি ছোট মনির জানান, কানমলা খালের মলাকান সেতু চার বছর আগ বন্যায় ধসে পড়ে। গোপালপুরের ঝাওয়াইল এবং সরিষাবাড়ীর পিংনা ইউনিয়নের সাথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণে এটি গুরুত্বপূূর্ণ সেতু। আপাতত বন্যায় জরুরী যাতায়াত ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণে দুর্গত এলাকার সাথে যোগযোগের জন্য কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সেতুটি কয়েক মাসের মধ্যেই নির্মিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
শুধু বেড়াডাকুরির এ সেতুই নয়, যেখান যতো ছোটখাটো সেতু ভেঙ্গে গেছে বা বাঁশের সাকো রয়েছে সেখানে অস্থায়ীভাবে তিনি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিবেন। বর্ষাকাল পার হলে ক্রমান্বয়ে এসব স্থানে পাকা সেতু করা হবে।
তিনি জানান, যেসকল ছোটখাটো কাজ নিজের খরচে বা চেষ্টায় করা যায়, সেসবের জন্য সরকারি দপ্তরের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। কারণ মানুষ দ্রুত সমস্যার সমাধান চায়। আমি জনগণের জন্য সেটা করতে চাই। তিনি আরাও জানান, প্রত্যেক বছর যমুনা নদীর ভাঙ্গন শুরু হলে বাঁধ রক্ষায় দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। জরুরী সময়ে বাঁধরক্ষা সামগ্রী না পাওয়ায় গত বছর ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের এক অংশ ভেঙ্গে গোপালপুরের ভিতরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছিল। এ জন্য এবার পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে বহুসংখ্যক জিও ব্যাগ বানিয়ে রাখা হয়। বাঁধ রক্ষায় সঙ্গে সঙ্গে তা কাজ লাগানো হয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে পূর্ব প্রস্তুুতি থাকা দরকার। যা আপদকালিন সময়ের বন্ধু হয়ে দাঁড়ায়।

এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, বেড়াডাকুরি কানমলা খালের উপর সেতুটি নির্মাণে জরিপ শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এমপি সাহেব এটির পিছনে লেগে আছেন। বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ বছরেই কানমলা খালে সেতু হবে।

Comments

comments


Top
error: Content is protected !!