আজ || বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০
শিরোনাম :
 


গোপালপুরে করোনায় মৃত্যু সন্দেহে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক জাহাঙ্গীর উকিলের দাফন

শরীরের নমুনা পাঠানো হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে

গোপালপুর বার্তা ডেক্স :

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সদস্য, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট আইনজিবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম খান (৫৫) করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ মৃতব্যক্তির শরীরে করোনার লক্ষণ সন্দেহ করায়, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্বাবধানে নিজ বাড়িতে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে জাহাঙ্গীর আলমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোর রাতে নিজ বাড়িতে জাহাঙ্গীর আলম মৃত্যুবরণ করেন। তিনি গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের বাদে মাকুল্যা গ্রামের মৃত আব্বাস আলী খানের সন্তান।

ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. মজিবর রহমান জানান, জাহাঙ্গীর উকিল টাঙ্গাইল শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করতেন। করোনাভাইরাস রোধে সরকারের সিদ্ধান্তে অফিস-আদালত বন্ধ হওয়ায়, গত ১৭ মার্চ তিনি পরিজন সাথে করে নিয়ে এসে গোপালপুরের বাদে মাকুল্লা গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অবস্থানকালে তিনি পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজার এলাকায় ঘুরাফেরা এবং জনসংযোগ করে বেড়িয়েছেন।

গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীম আল রাজী জানান, আজ সকালে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর স্বজনেরা নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত অবস্থায় পান। তিনি করোনাভাইরাসের সন্দেহের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরই জানা যাবে তিনি প্রকৃতই করোনায় আক্রান্ত হয়ে ছিলেন কিনা। আপাদত তার পরিবারের সবাইকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে।

ডা. রাজী আরও  জানান, গোপালপুর পৌরসভা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট বিশ্বজিৎ কুমারের কাছ থেকে গত রোববার অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিনি হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার কাশিসহ শরীরে জ্বর ছিল। ওই ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, জাহাঙ্গীর আলমের শ্বাসকষ্টসহ শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার নানা উপসর্গ উপস্থিত ছিল। ফার্মাসিস্ট বিশ্বজিৎ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলে, টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতলে সর্দিকাশির উপসর্গ নিয়ে তিনি চিকিৎসা নিতে যান। সেখানেও ডাক্তার তাঁকে হাসপাতলে ভর্তি হবার পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি ভর্তি না হয়ে জরুরী কাজের জন্য বাড়িতে ফিরে আসেন।

এদিকে করোনাভাইরাসে নাকি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর মৃত্যুবরণ করেছেন, তা নিয়ে তার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। উপজেলা আওয়ামীলীগের বেশ ক’জন নেতাকর্মী জানান, জাহাঙ্গীর উকিল করোনাভাইরাসে মারা যাননি। তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। দু’দিন পরই দেখা যাবে তাঁর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ। উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে, মাঝখান থেকে হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী এবং অাপনজনরা প্রিয় জাহাঙ্গীর সাহেবের চিরবিদায়ের ক্ষণে যথাযথ সম্মান জানাতে পারলোনা।

গোপালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এবং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হালিমুজ্জামান তালুকদার জানান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম সাহেবের পরিবার তাদেরকে জানিয়েছেন, অনেক আগে থেকেই তিনি হার্টের রোগী ছিলেন। তিনি হার্টস্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের ভুল তথ্যের উপর নির্ভর করে প্রশাসন থেকে মাইকিং করে উপজেলাবাসীকে, তাঁর সহকর্মীবৃন্দ ও গ্রামের সাধারণ জনগণ তাদের প্রিয় মানুষটির জানাযা ও দাফনকার্য়ে অংশ করতে বাঁধা প্রদান করলো।

এদিকে আজ বাদ আসর নিজ বাড়িতে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। সরাসরি জানাযায় উপস্থিত না হলেও, গ্রামবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মরহুমের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ গ্রহণ করেন, টাঙ্গাইল-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব ছোট মনির। এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব মো. হালিমুজ্জামান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মৃত জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ওই বাড়ি থেকে কেউ যেন বাহিরে বের না হন এবং অন্য কেউ যেন বাড়িতে প্রবেশও না করেন, অনুরোধসহ সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ মৃতব্যক্তির শরীরে মহামারী করোনা ভাইরাসের উপসর্গ উপস্থিতি সন্দেহ করায়, সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্বাবধানে নিজ বাড়িতে তাকে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম টাঙ্গাইল জেলা আদালতে দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। গত বছর তিনি টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের (গোপালপুর উপজেলা) সদস্য নির্বাচিত হন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের সিদ্ধান্তে অফিস-আদালত বন্ধ হওয়ায়, গত ১৭ মার্চ থেকে তিনি নিজ গ্রাম গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের বাদে মাকুল্লা গ্রামে অবস্থান করছিলেন।

Comments

comments


Top
error: Content is protected !!