আজ || সোমবার, ২৫ মে ২০২০
শিরোনাম :
  গোপালপুরের হেমনগরে আওয়ামীলীগ নেতার ঈদ উপহার বিতরণ       গোপালপুরে এমপি ছোট মনির কর্তৃক ১২০০ কর্মহীন শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ       গোপালপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে ১৫০টি হতদরিদ্র পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ       গোপালপুরে মসজিদ প্রতি ৫০০০ টাকাসহ ইমাম-মুয়াজ্জিনকে এমপির ঈদ উপহার প্রদান       গোপালপুর ও মধুপুরে ৩০০ পরিবারে সহপাঠীদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ       গোপালপুরে এসএসসি ৮৯ ব্যাচ কর্তৃক ৮০০ পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ       গোপালপুরে ৩০০০ কর্মহীন শ্রমিকের মাঝে এমপি ছোট মনিরের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ       করোনা দূর্যোগে পুলিশের ভূমিকা এবং প্রাপ্তি; প্রেক্ষিত বাংলাদেশ       গোপালপুরের বড়খালিতে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা       গোপালপুরে ৩০০০ কর্মহীন শ্রমিককে ঈদ উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী দেবো -এমপি ছোট মনির    
 


‘একুশে পদক ২০২০’ পাচ্ছেন টাঙ্গাইলের গর্ব ড. নুরুন নবী

কে এম মিঠু, গোপালপুর :

ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘একুশে পদক ২০২০’ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কৃতি সন্তান, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. নুরুন নবী।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০:৩০ মিনিটে, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালের একুশে পদক প্রদান করবেন।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. ফয়জুর রহমান ফারুকী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২০ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ সালের একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. নুরুন নবীকে ‘একুশে পদক ২০২০’ প্রদান করা হবে।

ড. নুরুন নবী :
যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী ১৯৪৯ সালে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খামারপাড়া গ্রামে এক সভ্রন্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর ১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হেমনগর শশীমুখী ইংলিশ মিডিয়াম হাইস্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন, ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়নে স্নাতক শেষ করে জাপানের কিয়ুশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মলিকিউলার বায়োলজিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করে, কোলগেট টোটালের অন্যতম আবিষ্কারক ড. নুরুন নবী দীর্ঘদিন কোলগেট কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর রয়েছে ৫০টিরও বেশি পেটেন্ট।

১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত থাকাকালীন তিনি যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয়া ছাড়াও তিনি ছিলেন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারী ও বার্তাবাহক। মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় কমান্ডারদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা ছাড়াও ভারতীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্রের জোগান দিতেন তিনি।

১৯৭২ সালের ৬ মে মুক্তিযুদ্ধে দুঃসাহসী ভূমিকা রাখার জন্য ড. নুরুন নবীকে, টাঙ্গাইলে মুক্তিবাহিনীর ‘মাথা/ দ্য ব্রেইন’ আখ্যা দেয় ‘ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ’ সাময়িকী।

একাত্তুরের দুঃসাহসী এই মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের পটভুমিতে ইতিহাস সমৃদ্ধ দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে লিখেছেন ‘বুলেটস অফ ৭১’ ‘অ্য ফ্রিডম ফাইটার’স স্টোরি’ নামে দুটি মহামূল্যবান গ্রন্থ।
এছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা ইতিহাসকে তুলে ধরে রচনা করেছেন ‘আমার একাত্তুর আমার যুদ্ধ’ ‘জন্মেছি এই বাংলায়’ ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ ‘আমেরিকায় জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি’ হুমায়ুন আহমেদ কাছের মানুষ’ ‘শামসুর রাহমান স্বাধীনতার কবি’ ‘কবীর চৌধুরী মৌলবাদের নির্ভীক প্রতিবাদী’ নামের গ্রন্থ। দেশ-বিদেশে গ্রন্থগুলো খুবই পাঠকনন্দিত এবং ব্যাপক আলোচিত।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি কর্তৃক সম্মানসূচক ‘ফেলোশিপ’ প্রদান করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবীকে।

আমেরিকার নিউজার্সীর প্লেন্সবরো টাউনশিপ কমিটির নির্বাচনে ড. নুরুন নবী চারবার কাউন্সিলম্যান হিসাবে নির্বাচিত হোন। নিষ্ঠার সাথে দ্বায়িত্ব পালন এবং জনসেবায় বিশেষ ভূমিকা রাখায়, বেশ কয়েকবার প্লেন্সবরো ডেমোক্রেটিক অর্গানাইজেশনের পুরস্কার লাভ করেন এই বাংলাদেশী।

Comments

comments


Top
error: Content is protected !!