আজ || সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১
শিরোনাম :
  সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের পিতা রাজ্জাক মাস্টারের দাফন সম্পন্ন       একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক খানকে নাগরিক সংর্বধনা       শোক সংবাদ :: অধ্যাপক রেজাউল বারী জামালী       টাঙ্গাইলের শ্রেষ্ঠ উপজেলা হাসপাতাল গোপালপুর       গোপালপুরে নৌকার সমর্থকদের হাতে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী নিহত       বিদ্রোহী নিয়ে বেকায়দায় আ’লীগ; সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি       গোপালপুরে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা তুলা কমান্ডার পাঠাগার’ উদ্বোধন       ‘একুশে পদক’ পাচ্ছেন টাঙ্গাইলের ফজলুর রহমান খান ফারুক       গোপালপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন ৬৮ ভূমিহীন পরিবার       গোপালপুর উপজেলা লেডিস ক্লাবের নবাগত সভাপতিকে সংবর্ধনা    
 


গোপালপুরে স্কুল শিক্ষকের ৩০ বেত্রাঘাতে গুরুতর জখম শিক্ষার্থী

কে এম মিঠু, গোপালপুর :

গোপালপুরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে স্কুলের শিক্ষক কর্তৃক বেত্রাঘাতে গুরুতর জখম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর হাতেম আলী বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র সাব্বির হোসেনকে এক তুচ্ছ ঘটনায় বেত্রাঘাতে গুরুতর জখম করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল তালুকদার।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পড়ে না আসায় শিক্ষক আব্দুল জলিল কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দাঁড় করায়। পরে ক্লাসে উপস্থিত প্রায় শিক্ষার্থীকেই কমবেশি বেত্রাঘাত করে। একই সময় দশম শ্রেণীর ছাত্র সাব্বিরকে বেত্রাঘাত করতে গেলে সাব্বির তার ইউনিফর্মের সমস্যার কথা জানায় এবং ক্ষমা প্রার্থণা পূর্বক তাকে মাফ করে দিতে অনুরোধ করে। কিন্তু শিক্ষক আব্দুল জলিল শিক্ষার্থীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেত্রাঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে বেত ভেঙ্গে গেলে অফিসরুম থেকে বেত সংগ্রহ করে তাকে পরপর ৩০টি বার বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতগুলো এতটাই পাশবিক যে, তার শরীরের বিভিন্নস্থানে বেত্রাঘাতের চিহ্ন বিভৎস আকারে ফুটে ওঠে।

পরে বিদ্যালয়ে সহপাঠী শিক্ষার্থীরা সাব্বিরের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করে।

সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার (৫ অক্টোবর) বেত্রাঘাতে গুরুতর জখম হওয়া স্কুলছাত্র সাব্বির হোসেনের বাড়ীতে গেলে তার মা ও বড় ভাই ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। তারা আরও জানান, ইউএনও বরাবর দেয়া অভিযোগ তুলে নিতে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিদ্যালয়ের ৪জন শিক্ষক তাদের বাড়িতে এসে পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন।

অসুস্থ সাব্বিরকে দেখতে আসা তার সহপাঠীরা ওই বদমেঝাজি শিক্ষকের সঠিক বিচার দাবি করে জানায়, জলিল স্যার স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সামান্যতম একটু ভুল অথবা তুচ্ছ একটি বিষয় হলেই তাদের ওপর খুব ক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ প্রায়ই স্যারের অমানবিক নির্যাতন পোহায় ছাত্রছাত্রীরা। সাব্বিরকে বেত্রাঘাত করা জলিল স্যারের জন্য নতুন কোন ঘটনা নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, ছাত্রীদের শরীরের আপত্তিকর স্থানেও বেত্রাঘাত করেন ঐ শিক্ষক। অভিভাবকদের কাছেও যা তারা লজ্জায় বলতে পারেনা। আর স্যার আমাদের মাঝেমধ্যেই বলে থাকেন, এসএসসি পরীক্ষায় তোরা কিভাবে পাশ করিস তা আমি দেখে ছাড়বো।

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোস্তফা কবির জানান, অভিযোগটি ইউএনও বরাবর করা হলেও বিষয়টি আমি জেনেছি। বর্তমানে বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয় খোলা হলে অবশ্যই বিষয়টির সমাধানে বসা হবে। গোপালপুর শিক্ষক সমিতির সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এর পূর্বেও ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি আমার ছাত্রদের একটু শাসন করেছি মাত্র। আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে শাসন করতেই পারি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

কমেন্ট করেছে


Top
error: Content is protected !!