আজ || শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১
শিরোনাম :
 


ছোট কথা ছোট নয়

:: শান্তা মারিয়া :: আজ বিশ্ব মা দিবস। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন। আবহমানকাল থেকেই বাঙালির সমাজে মায়ের মর্যাদা ও স্থান অতিউচ্চে। প্রাচীনকালে বঙ্গভূমিতে মাতৃতান্ত্রিক সমাজের অস্তিত্ব ছিল বলে সমাজতাত্ত্বিকরা মনে করেন। তবে আলাদাভাবে মায়ের জন্য কোনো দিবস পালনের রীতি ছিল না।

মা দিবস পালনের ঐতিহ্য অবশ্য ইউরোপে অনেক প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। প্রাচীন গ্রিস ও রোমে মাতৃদেবী সিবিলির পূজার দিনটিকে মাতৃদিবস হিসেবে পালনের রীতি ছিল। রোমান পুরাণ অনুযায়ী সিবিলি ছিলেন মাতৃদেবী। তিনি প্রকৃতির প্রতিপালিকা। এ জন্য পরে তিনি তিন প্রধান মাতৃদেবীর অন্তর্ভুক্ত হন। তিনজন দেবী রোমে মাতৃদেবী হিসেবে পূজিত হতেন। এরা হলেন সিরিস, সিবিলি ও ভিনাস। রোম, গ্রিস ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে এপ্রিল, মে, জুন মাসের বিভিন্ন দিনে মা দিবস পালিত হতো। মাতৃদিবসের সম্মানে তখন মাকে উপহার দেওয়ার রীতি প্রচলিত হয়। খ্রিস্টধর্মের প্রসারের পর মা মেরীর সম্মানে মা দিবস পালিত হতে থাকে। সাধারণত লেন্ট পরবের চতুর্থ রবিবার মা দিবস পালিত হতে থাকে। আধুনিক মা দিবসের প্রচলন যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন সমাজসেবক আনা জার্ভিস ১৯০৫ সাল থেকে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দিবস হিসেবে ‘মা দিবস’ প্রচলন করার পক্ষে জনমত গঠন করতে থাকেন। ১৯০৮ সালে আনা জার্ভিস ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে তার মৃত মায়ের স্মরণে চার্চে একটি স্মৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ১৯১২ সালে আনা জার্ভিস মাদারস ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন স্থাপন করেন। তিনি মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস প্রচলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। প্রথমদিকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে স্থানীয়ভাবে মা দিবসে স্বতঃস্ফূর্ত ছুটি পালিত হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এ দিনটিকে সাধারণ ছুটির দিন করার প্রস্তাব প্রথমে উড়িয়ে দিলেও পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাষ্ট্রপতির সুপারিশে এ দিনটি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হতে থাকে। ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন হিসেবে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস করার পক্ষে সুপারিশ করেন। পরে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং অন্যান্য রাষ্ট্রপতির সমর্থনে দিনটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে পালিত হতে থাকে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মা দিবস পালিত হয়। চীন, জাপানসহ দূর প্রাচ্যে দিবসটি উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ায়ও মা দিবস পালিত হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। নেপালে মা দিবস পালনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রীকৃষ্ণ ও তার মা দেবকীর একটি পৌরাণিক কাহিনী।

ভারতে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার দিনটি পালিত হয়। তবে এর সঙ্গে ধর্মীয় কোনো আচারের সম্পর্ক নেই। সেখানে দিবসটি শহুরে সংস্কৃতি হিসেবে প্রচলিত। আমাদের দেশে মা দিবসের প্রচলন গত কয়েক বছরে।

বাংলাদেশেও এখন পর্যন্ত দিনটি মূলত শহরাঞ্চলের পরিবারগুলোতেই সীমাবব্ধ। বাংলাদেশে মা দিবস পালনের অংশ হিসেবে মাকে উপহার প্রদান, মায়ের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন, মায়ের সঙ্গে বেড়ানো ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়ে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। যদিও বছরের প্রতিটি দিনই মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের দিবসগুলোর ফলে সমাজে নতুনভাবে সচেতনতা সৃষ্টি হয় এবং প্রবীণ মা-বাবার যত্ন, তাদের অধিকারের বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতনতার সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। বৃদ্ধাশ্রমে মা-বাবাকে প্রেরণ না করার বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতে মা দিবস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

কমেন্ট করেছে


Top
error: Content is protected !!