গোপালপুর আজ , শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯ ইং |


গোপালপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় ফেলের হিড়িক, নেই কোনো জিপিএ ফাইভ

গোপালপুর বার্তা ডেক্স :

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। ফেলের হিড়িক। কোনো জিপিও ফাইভ নেই। অভিভাবরা হতাশ।

উপজেলার একটি মহিলা কলেজসহ ৭টি কলেজ থেকে এবার ১ হাজার ৭৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ৮শ ৭জন। অনুত্তীর্ণ ৯৮৩ জন। পাশের হার ৪৫.১৮%। কলেজ ওয়ারী নারুচি স্কুল এন্ড কলেজ ৮০ জনে ২৫ জন উত্তীর্ণ। পাশের হার ৩১.২৫%। শিমলা পাবলিক উচ্চবিদ্যালয় ২৮ জনে ৭ জন। পাশের হার ২৫%। খন্দকর ফজলুল হক কলেজ ১০৩ জনে ৩৮জন উত্তীর্ণ। পাশের হার ৩৬.৮৯%। এইচবি কলেজ ৫৮ জনে ১১জন। পাসের হার ১৮.৯৬%। হেমনগর ডিগ্রী কলেজ ৩৯৪ জনে ৯৮জন। পাশের হার ২৪.৮৭%। মেহেরুন্নেছা মহিলা কলেজ ৩২৫ জনে ২০৪ জন। পাসের হার ৬২.৭৬%। গোপালপুর সরকারি কলেজ ৭৯৮ জনে ৪২৪ জন উত্তীর্ণ। পাসের হার ৫৩.১৩%।

উপজেলায় ৭টি কলেজ থাকায় প্রতি বছর ভর্তির সময় ছাত্রছাত্রী নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি হয়। ফাইনাল পরীক্ষায় নানা সুযোগসুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রæতি দেয়া হয়। পরীক্ষায় অসাধুপন্থা অবলম্বনে সুযোগও পায় তারা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস এখানে যোগদানের পর এবার গণটোকাটুকি পুরোটাই বন্ধ করে দেন। ফলে ফলাফলে বিপর্যয় ঘটে।

কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলেও অনেক পরীক্ষার্থীকে এবার ফরমফিলাপের সুযোগ দেয়া হয়। কলেজের গভর্নিংবডি এবং ছাত্রনেতাদের চাপে এসব করা হয়। হেমনগর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খদেুমুল ইসলাম জানান, স্থানীয় চাপে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের ফরমফিলাপ করায় ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। গোপালপুর কলেজের উপাধ্যক্ষ জানান, এবার এক বিষয়ে ফেল করা ছাত্রছাত্রীদের নিয়মানুযায়ী ফরমফিলাপের সুযোগ দেয়ায় ফলাফল খারাপ হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। অসাধুপন্থা একদম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষক ঠিকমতো ক্লাস নেননা। কোনো দিন আদৌ ক্লাস না করেনি এমন ছাত্রছাত্রীরাও নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসাবে অংশ নেয়ায় হতাশাব্যঞ্জক ফলাফল হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, এখানে লেখাপড়া হয় বলে মনে হয়না। সরকার সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিলেও শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেনা।

Comments

comments


Top