গোপালপুর আজ , শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯ ইং |


দু’দিন পর হাড়ি চড়ালো মনোয়ারা; গোপালপুরে পানিবন্দী তিন গ্রামে ত্রাণ বিতরণ

জয়নাল আবেদীন, গোপালপুর :

যমুনার কলমিচরে জন্ম মনোয়ারার (৪৮)। ছয় বছর বয়সে প্রথম যমুনার ভাঙ্গণ দেখেন। ত্রিশ বছর আগে ঘর বাঁধেন চরসোনামুই গ্রামের ফজলু মিয়ার সাথে। দুই সন্তানের জননী মনোয়ারা স্বামীর ভিটেয় এসেও বহুবার দেখেছেন যমুনার ভাঙ্গণ। কমপক্ষে দশবার সর্বনাশা যমুনা বাড়ীঘর, আবাদী জমিসহ সর্বস্ব গ্রাস করেছে। এ চর থেকে ও চরে। নতুন উদ্যোমে ঘর বাঁধা। ভাঙ্গনের যেমন শেষ নেই। তেমনি বেঁচে থাকার লড়াইও চলছে নিরন্তর। পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনা শাসনে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলার বাঁশুরিয়া থেকে গোপালপুর উপজেলার চরভরুয়া পর্যন্ত তিনকিলো গাইডবাঁধ নির্মাণ করেন। গাইডবাঁধের দরুণ নদীর সোনামুই প্রান্ত ভাঙ্গণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এমতাবস্থায় গাইডবাঁধের পাশ ঘেষেই নতুন ঘর তোলেন মনোয়ারা। কিন্তু নদীভাঙ্গণ বন্ধের স্বস্তির নিশ্বাস না নিতেই উপদ্রব দেখা দেয় বুক সমান উঁচু বাণের জল। চরসোনামুই, নতুন কলমিবাড়ি ও দক্ষিন সোনামুই গ্রাম এখন পানির নিচে। এ তিন গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক পরিবার এখন পানিবন্দী। কোনো কোনো বাড়িতে গলা সমান পানি। কোনো কোনো বাড়ির মানুষ ঘর সমান উঁচু পানি নিয়ে কলার ভেলা বা নৌকায় অস্থায়ী নিবাস গেড়েছেন। পানিবন্দী এসব মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন গোপালপুর উপজেলা প্রশাসন।

আজ বুধবার গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ওই তিন গ্রামের পানিবন্দী মানুষের দ্বারে হাজির হন। এ সময় ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ত্রাণ সামগ্রীর জন্য আর দশজন বানভাসীর মতোই কলার ভেলায় চড়ে ত্রাণের নৌকার সামনে হাজির হন মনোয়ারা। স্থানীয় মেম্বার ও মাতব্বররা ত্রাণসামগ্রী বিতরণের লিস্টে মনোয়ারার নাম অন্তর্ভূক্ত না করায় চেঁচামেচি শুরু করেন তিনি।

মনোয়ারা জানান, দু’দিন দিন ধরে রান্নাবান্না বন্ধ। স্বামীর কাজকর্ম কামাইরোজগার নেই। দুই বাচ্চা নিয়ে সকাল থেকে অভূক্ত। প্রশাসনের উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি ঘুরে শুকনো খাবারসহ চাল, ডাল, তেল, নুন, চিড়ার প্যাকেট বিতরণ হচ্ছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য ত্রাণের প্যাকেট পাচ্ছে। অথচ তার মতো নিঃস্বকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তার চেঁচামেচি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি কাড়ে। অবশেষে তার হস্তক্ষেপে ত্রাণের প্যাকেট জোটে মনোয়ারার। সামান্য হলেও ত্রাণ সামগ্রী পেয়ে মনোয়ার মুখে হাসির ঝিলিক খেলে যায়। মনোয়ারার মতো শতাধিক দরিদ্র, বিধবা, প্রবীণ ও দুঃস্থরা ত্রাণসামগ্রী পেয়ে খুশি।

ঝাওয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, চাহিদার তুলনায় ত্রাণসামগ্রীর পরিমাণ কম। এজন্য বেঁছে বেঁছে প্রকৃত নিঃস্বদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে হচ্ছে। পানিবন্দী শত শত পরিবারের মধ্যে স্বল্প পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ সত্যিই খুব কঠিন কাজ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, পানিবন্দী এবং প্রকৃত দুঃস্থদের ডোর টু ডোর গিয়ে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। হতাশার কিছু নেই। সামনে আরো ত্রাণ সামগ্রী আসছে। সেসব সঠিকভাবে বন্টন করা হবে।

Comments

comments


Top