গোপালপুর আজ , শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯ ইং |


যমুনা নদীর তীর ভাঙন কবলিত মানুষ পাউবো’র কর্মযজ্ঞে আশান্বিত

কে এম মিঠু, গোপালপুর :

প্রমত্ত্বা যমুনা নদীর বাম তীর (টাঙ্গাইল অংশ) ভাঙনরোধ ও সংরক্ষণ প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮২.১৩ কোটি টাকা ব্যয়ের বিশাল কর্মযজ্ঞে নদীর পাড়ের অসহায় মানুষগুলো আশান্বিত হচ্ছে ক্রমাগত। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছরের ন্যায় যমুনা নদীর কড়ালগ্রাস আর তাদের বাড়ি-ঘর ও আবাদি জমি করবে না বিলীন। নিজ জমিতে চাষাবাদসহ পাকা ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতে পারবে নির্বিঘ্নে এটিই এখন তাদের ধারণা।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর ক্রমাগত ভাঙনরোধ ও পানি প্রবাহ সঠিক রাখতে পাউবো টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার ভরুয়া-বটতলা ও অর্জুণা প্রকল্প নামে দুইটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ভরুয়া-বটতলা প্রকল্পে ২৮১.৫৭ কোটি টাকা ও অর্জুণা প্রকল্পে ২০০.৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্প দুটির মোট বরাদ্দের ৫১ শতাংশ অর্থ নদী ড্রেজিংয়ের জন্য এবং বাকি ৪৯ শতাংশ অর্থ দিয়ে নদীর বাম তীরে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ভরুয়া-বটতলা প্রকল্পের ৩ কিলোমিটার নদীতীরে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ১২টি গ্রুপে যথারীতি দরপত্র আহ্বান ও ১২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। অর্জুণা প্রকল্পের ৩.৭৫০কিলোমিটার নদীতীরে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে ১৪টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করে ১২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। বাকি দুটি গ্রুপের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়ায় থাকার ফলে ওই দুইটি গ্রুপের কাজ বন্ধ রয়েছে।

সূত্রমতে, ২৬টি গ্রুপের মধ্যে ২৪টি গ্রুপের কার্যাদেশ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেয়া হয়েছে। তারা যথারীতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ২৪টি গ্রুপের মধ্যে ১৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদীতীরে সিসিব্লক বসিয়ে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অন্য ১১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ চলমান রয়েছে। তবে তারা মোট কাজের ৪৫ শতাংশ সম্পন্ন করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীতীর সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে টেকবাই ইন্টারন্যাশনাল নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিব্লক তৈরির কারখানা বসিয়েছে। দিনরাত সেখানে মানসম্মত (বুয়েটে পরীক্ষিত) সিসিব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মো. ফেরদৌস হাসান জানান, তারা বুয়েটের প্রকৌশলী দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিসিব্লক তৈরি করার পর, সেগুলো পাউবো’র প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ারের অনুমতি পেলেই কেবল নদীর তীরে ব্যবহার করতে পারছেন। নদীতীরে এমন উন্নত কর্মকান্ড ইতোপূর্বে আর কখনোই হয়নি বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

যমুনার নদীর তীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সাত্তার খান, নাজিম উদ্দিন তালুকদার, বহরম তালুকদার, খায়রুল মন্ডলসহ অনেকেই জানান, নদী ভাঙনরোধে শুকনো মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাধারণত কাজ করেনা। এবার তারা অনেকটাই ভিন্নতা দেখতে পাচ্ছেন। তারা আরও জানান, নদী শাসন ঠিকমতো করা হলে তারা বর্ষা মৌসুমে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। ভাঙনরোধ হলে চাষাবাদসহ নিত্যনৈমিত্তিক কাজকর্ম নির্বিঘ্নে করতে পারবেন। দ্রুততার সাথে যথাসময়ের মধ্যে নদীর তীর ভাঙনে প্রতিরক্ষামূলক কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. গোলাম সরওয়ার জানান, ভরুয়া-বটতলা ও অর্জুণা প্রকল্পে মোট ৬.৭৫০ কিলোমিটার নদীতীর সিসিব্লক দিয়ে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে প্রকল্পের ২৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান । আর ড্রেজিং অংশ ব্যতিত তীর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার কাজ সম্পন্ন করেছে প্রকল্পের ১৩টি প্রতিষ্ঠান। দ্রুতগতিতে বাকি কাজগুলো এগিয়ে চলছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নির্ধারিত সময়ের (২০১৯-২০ অর্থবছর) মধ্যেই প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ভাঙনরোধ ও সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজের গুনগত মানে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হচ্ছেনা। তিনি দাবি করেন, ২৪টি গ্রুপের ২৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাসময়ের মধ্যেই যমুনার ভাঙন থেকে নদীর তীরে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।

Comments

comments


Top