গোপালপুর আজ , সোমবার, মে ২৭, ২০১৯ ইং |


গোপালপুরে প্রেম প্রত্যাখ্যাত স্কুলছাত্রী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা

কে এম মিঠু, গোপালপুর : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে প্রেমিকের সাথে পালাতে বাধা ও প্রেম প্রত্যাখ্যাত ৮ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। মৃতের নাম মোছাম্মৎ মীম (১৪)। সে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামের মুক্তার হোসেনের মেয়ে। মীম মোহনপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।

গতকাল সোমবার সকালে মা-বাবা বাড়িতে না থাকায় নিজ থাকার ঘরে ধর্নার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে সে। বিষয়টি জানাজানির পর, তাকে এক নজর দেখার জন্য ওই বাড়িতে আশপাশের গ্রামসহ নিজ গ্রামের হাজারো মানুষের ভীড় জমে।

মিমের বাবা মুক্তার হোসেন জানান, পরিবারের অজান্তে পাশর্^বর্তী উপজেলার রৌহা গ্রামের বাসিন্দা ও রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মিয় শিক্ষক মো. আতোয়ার রহমান খানের ছেলে মো. আতিক (২৪) এর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। গত ৯ মে মঙ্গলবার যথারীতি বাড়ি থেকে মীম স্কুলে গিয়ে পূর্বাকল্পনানুযায়ী চাঁন মিয়া (২২) নামক আতিকের এক বন্ধুর সহযোগিতায় আমার মেয়েকে নিয়ে অটোরিক্সাযোগে পালাতে গেলে মোহনপুর বাজারের লোকজন তাদেরকে আটকাতে চেষ্টা করলে আতিকসহ তার সহযোগি বন্ধু চাঁন মিয়া দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমি সংবাদ পেয়ে মীমকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য ঘটনাস্থলে গেলে, মীম বাড়ি ফেরার কথা অস্বীকার করে জানায়, সে আতিকের বাড়িতে যাবে। কেননা আতিকের সাথে তার গভীর সম্পর্ক। আতিক তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছে। পরে মীমের স্কুলের সভাপতি মো. আশরাফুজ্জামান, স্থানীয় মাতাব্বর খোরশেদ আলম, কাশেম আলী, আজহার খান, হাসান মাস্টার, সুরুজ খান ও ইউপি মেম্বার তোতা উভয় পক্ষকে একত্র করে বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনাটির সুরাহা করতে মীম এবং আমাকে আশ^াস ও তাদের পরামর্শে নিজ বাড়িতে না এনে পাশর্^বর্তী নর্জনা গ্রামে আমার মামার বাড়িতে মীমকে রেখে আসি। ঘটনার পরের দিন ১০ মে বুধবার সিদ্ধান্ত হয় ১৩ মে শনিবার সকাল নয় ঘটিকায় মীমের স্কুল মোহনপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে এবিষয়ে বৈঠক হবে। তাই মীমকে ওর ফুফুর বাড়ি গোপালপুর উপজেলার বরুরিয়ার সুদেববাড়ি রেখে আসি। ১২ মে শুক্রবার রাতে খবর আসে, ছেলে মীমকে বিয়ে করতে রাজি নয় এবং সে পলাতক। এদিকে মীমর মা প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক মমতাজ বেগম হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে, গতকাল রবিবার মীমকে বিয়ের মিথ্যে আশ^াস দিয়ে ওর ফুফুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসি। আজ ১৫ মে সোমবার সকালে মীমের অসুস্থ্য মাকে ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়ায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে আনুমানিক সকাল ১০টায় মোবাইল ফোনে আমাকে জানানো হয়, বাড়িতে সমস্যা হয়েছে, তাই এক্ষুনি আমাকে বাড়িতে ফিরতে। বাড়িতে ফিরে এসে দেখি, ফাঁকা বাড়ি পেয়ে আমার আদরের মীম ওর থাকার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতেছে।

গোপালপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁসিতে ঝুলন্ত থাকা লাশ উদ্ধার করে। এসআই আব্দুল হাই ও এসআই জামিল লাশের সুরতহাল শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।

গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ধারনা করা হচ্ছে প্রেম ঘটিত কারনে হয়তো মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করাসহ প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ধরণ ও মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments


Top