গোপালপুর আজ , সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ ইং |


দশ বছরের টিআর-কাবিখার হিসাব নেয়া হবে -এমপি ছোট মনির

কে এম মিঠু, গোপালপুর :

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ ছোট মনির বলেছেন, বিগত দশ বছরে গোপালপুর উপজেলার টিআর-কাবিখার কয়েক হাজার টন চাল, গম ও নগদ টাকা কারা কিভাবে আত্মসাৎ করেছেন তার হিসাব নেয়া হবে।

আজ রবিবার দুপুরে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম মিটিংয়ে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন- ‘যারা সরকারের এসব অনুদানে পেট মোটা করেছেন তাদের প্রতি হুশিয়ার উচ্চারণ করে তিনি বলেন, জনগণের পাওনা জনগণ পাবার জন্য মুখিয়ে আছে। চুরিচামারির দিন এখন শেষ।’

ছোট মনির বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। একটি উপজেলায় প্রতি বছর বিপুল পরিমান বাজেট আসে। কিন্তু গোপালপুরে সে বাজেটের টাকা ও অন্যান্য বরাদ্দ অতীতে ঠিক মতো বন্টন বা উপযুক্ত কাজে ব্যবহার করা হয় নাই। এখন থেকে সরকারি বরাদ্দের টাকা আর নয়ছয় করতে দেয়া হবেনা। প্রতিটা পয়সা জনগনের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। কোন দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেয়া হবেনা।

তিনি হাসপাতালের উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে অনুদান প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময়ে স্বাস্থ্য কর্মকতা ডাক্তার আলীম আল রাজী সাংসদ ছোট মনিরকে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা অবহিত করেন। স্টাফ সঙ্কট, সরঞ্জামের অভাব, বহিরাগতদের উপদ্রব, আবাসিক সমস্যাসহ একাধিক বিষয়ে দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে ছোট মনির বলেন, একদিনে সব সমস্যার সমাধান যাবে না। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালতে সব রকম সমস্যার সমাধান করে গোপালপুর হাসপাতাল একটি মডেল হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হবে।

তিনি বলেন, মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। দুর্নীতির উৎস বন্ধ করতে চান। মিটিং চলাকালে তিনি একযুগ ধরে গোপালপুর হাসপাতালে পোস্টিং পাওয়া দুই মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার অবন্তী কর ও ডাক্তার সুদীপ্ত ঘোষের হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকা এবং ঢাকায় একটি হাসপাতালে চাকরি করার তথ্য পেয়ে বিস্মিত হন। ওই দুই ডাক্তার ঢাকায় প্রেষণে থেকে গোপালপুর থেকে দীর্ঘ দিন ধরে বেতন ভাতা নিচ্ছেন। পরে মিটিং থেকে এমপি ছোট মনির ওই দুই ডাক্তারকে সরাসরি ফোন করেন। তিনি তাদেরকে এক সপ্তাহ সময় দিয়ে গোপালপুর হাসপাতালে যোগদান নতুবা এখান থেকে রিলিজ লেটার নিয়ে বদলী হয়ে যাবার নির্দেশ দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলীম আল রাজীর সভাপতিত্বে মিটিংয়ে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডাক্তার শরীফ হোসেন খান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস, নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, আলমনগর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন, হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার, ঝাওয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, ধোপাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী খন্দকার গিয়াস উদ্দীন, সহসভাপতি আব্দুল জব্বার, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনসহ হাসপাতালের সকল চিকিৎসক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

Comments

comments


Top