গোপালপুর আজ , সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ ইং |


গোপালপুরে বন্ধ হচ্ছেনা নদী দখল ও ভরাট, ভূমিকা নেই প্রশাসনের

কে এম মিঠু, গোপালপুর :

টাঙ্গাইলের গোপালপুরের পৌরশহর ঘেষে বয়ে যাওয়া বৈরাণ নদী ভরাট ও দখলে থেমে নেই দখলদারদের দখল উৎসব। নদী দখল বন্ধে কোনো ভূমিকা নেই স্থানীয় প্রশাসনের।

জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় বীরদর্পে প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে নদীর উভয় তীর ভরাট করে পজিশন বিক্রিসহ গড়ে তুলছেন সুবিধামত বাসাবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও বেসরকারি অফিস।

পৌরশহরের হাট বৈরাণ, কোনাবাড়ি বাজার, থানা চত্বর, নন্দনপুর, চর পাড়া ও দক্ষিণ গোপালপুর এলাকায় নদী ভরাটের প্রবণতা বেশি। পৌরসভা কার্যালয়ের ২০০ গজের মধ্যেই প্রতিদিন ময়লা আবর্জনা ফেলে নদী দখল করাসহ দূষণ ঘটাচ্ছে পরিবেশ। দূষিত হচ্ছে নদীর জল।

পৌরসভা, ভূমি অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সামনে দিনের পর দিন নদী দখল ও ভরাটের দরুন স্রোতঃস্বিনী বৈরান এখন শীর্ণকায়া খাল। কোনকোন অংশ এখন প্রায় ড্রেনে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি বৈরাণ নদী দখল মুক্ত করতে স্থানীয় ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন আমরা গোপালপুরবাসী ফেসবুক গ্রুপ ও সুজন -সুশাসণের জন্য নাগরিক গোপালপুর শাখা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে স্মারকলিপি দেন। কিন্তু নদী ভরাট বন্ধে ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

ভাটি অঞ্চলের কৃষকরা জানান, গোপালপুর শহর অংশে বৈরাণ নদী ভরাটের কারণে স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়ে এ নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকা প্রায় ২০টি খাল ও বিলে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। আমনের মৌসুমে ফসল ডুবে ঘটে ফসলহানি। সহস্রাধিক একর জমি অনাবাদি থাকে জলাবদ্ধতার কারণে। বর্ষাকালে ভাঙনে বিলীন হয় নদীর ভাটি অঞ্চলের আবাদি জমি।

বৈরাণ নদী ঝিনাই নদীর একটি শাখা। টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় প্রবাহিত এই বৈরাণ নদী পথে এক সময় উত্তরবঙ্গের সাথে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে সোনালী আঁশ বলে খ্যাত পাট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বৈরাণের তীরে গড়ে উঠে আজকের গোপালপুর শহর। আনারসের রাজধানী মধুপুর থেকে আনারস ভর্তি পাল তোলা নৌকায় আনারস পৌঁছে যেত উত্তরবঙ্গে।

বৈরাণ নদী দখল নিয়ে প্রাবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বাণীতোষ চক্রবর্তী বলেন, এই বৈরাণ নদী আমাদের প্রাণ এবং আর্শিবাদ। শহরতলীতে বিশুদ্ধ নি:শ্বাস নেয়ার একমাত্র স্থান। কিন্তু দখলদারদের কারণে প্রাণের বৈরাণ এখন অনেকটাই মৃত। ভবিষ্যত প্রজন্ম বিশ্বাসই করবেনা এই নদীতে এক কালে পালতোলা নৌকা চলত। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি, দ্রুততার সাথে নদী দখলমুক্ত করে নদীর প্রাণ ফিরে দেয়ার।

এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজা মোহম্মদ গোলাম মাসুম প্রধান গোপালপুর বার্তাকে জানান, জবর-দখলকারীরা খুবই প্রভাবশালী। নানা কৌশলে বৈধ-অবৈধ কাগজপত্র তৈরি করে নদী দখলে নিয়েছেন। শুধু প্রশাসন দিয়ে নদী দখল মুক্ত করা যাবে না। সমাজের সচেতন অংশকেও এজন্য এগিয়ে আসতে হবে। তবে ভবিষ্যতে কেউ যাতে আর নদী দখল করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন সজাগ রয়েছে।

Comments

comments


Top